এক দিনের বাদশাহ হলে এই ভবনকে জাদুঘর বানাতাম: জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
· Prothom Alo

সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলার শিকার প্রথম আলোর ভবন নিয়ে আয়োজিত শিল্পী মাহ্বুবুর রহমানের তৈরি ‘আলো’ শীর্ষক প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কূটনীতিক, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাব ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। প্রদর্শনী দেখতে শনিবার দুপুরে এসেছিলেন অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতা জানান, ধিক্কার জানানোর কোনো ভাষা তাঁর কাছে নেই।
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখেছিলাম, প্রথম আলোর এই ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই অবস্থা, এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখব আমার ধারণা ছিল না। আমি ঠিক জানতাম না যে এখানে একটা প্রদর্শনী হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে খবরটা পেয়ে এখানে এসেছি। এটি দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। যোগ্য ভাষা আমার গলায় নেই। এই যোগ্য ভাষায় এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গেলে আমাকে বাংলা অভিধান নিয়ে বসতে হবে। ধিক্কার জানানোর কোনো ভাষা আমার কাছে নেই।’
Visit chickenroad-game.rodeo for more information.
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘যেভাবে শিল্পী এই চারতলায় ধ্বংসস্তূপগুলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে করে রেখেছেন, এটি আমাদের অনেক বেশি ভারাক্রান্ত করে ফেলেছে। অত্যন্ত শিল্পিতভাবে এই ধ্বংসস্তূপের প্রতিচ্ছবিটা তাঁরা তুলে ধরেছেন।’এক দিনের জন্য বাদশাহ হলে প্রথম আলোর এ ভবনটি জাদুঘর বানানোর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেতা।
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাকে যদি বাংলাদেশের এক দিনের সুলতান, বাদশাহ বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এই কালো অধ্যায়ের স্মৃতিতে এই বাড়িটি কিনে একটা জাদুঘর বানাতাম। জানি সেটা একটা অলীক কথা, কিন্তু এটা আমার মনের ইচ্ছা। এর বেশি কিছু বলার আমার কাছে নেই। তবে আজকে না এলে আমি অনেক কিছু হারাতাম, এই ভয়াবহ স্মৃতি আমার কাছে চিরকালের জন্য থাকবে। এই স্মৃতি মুছবে না।’
১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনে প্রতিদিন বেলা ১১ টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। ‘আলো’ শীর্ষক এ আয়োজন চলবে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত।