ঈদের সিনেমা ‘দম’: খোকন মোল্লা শুনিয়েছেন চরিত্রদের লুক তৈরির গল্প

· Prothom Alo

ঈদের ছবি ‘দম’-এ রূপসজ্জা শুধু সৌন্দর্য নয়, গল্পের প্রাণ হয়ে উঠেছে, যেখানে খোকন মোল্লা প্রতিকূল পরিবেশ, কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে চরিত্রগুলোকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। তাঁর দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সিনেমাকে দিয়েছে বাস্তবতা ও গভীরতার নতুন রূপ।

‘দম’ সিনেমার ভিজ্যুয়াল জগৎকে বাস্তব আর বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার পেছনে যেমন ছিল কস্টিউম টিমের নিখুঁত কাজ, তেমনি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল রূপসজ্জাশিল্পীদের অবদান। সেই দলের অন্যতম খোকন মোল্লা, যিনি এর আগে সুড়ঙ্গ, জংলি, সুন্দরবন অ্যাডভেঞ্চার, পরাণ-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তবু তাঁর ভাষায়, ‘দম’-এ কাজের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই অন্য রকম—আরও কঠিন, আরও চ্যালেঞ্জিং, আবার একই সঙ্গে গভীরভাবে তৃপ্তিদায়ক।

Visit newsbetsport.bond for more information.

আফরান নিশোরকে শেষ মুহুর্তে চাপআপ করছেন খোকন

কাজাখস্তানের শুষ্ক ও কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়ায় যখন পুরো টিম শুটিং করেছেন, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেটে থাকা, মেকআপ ঠিক রাখা—সবই ছিল একেকটা পরীক্ষা। তার ওপর সহকারী হিসেবে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই স্থানীয় কাজাখ; ফলে ভাষাগত সমস্যাও কাজকে আরও কঠিন করে তোলে। তবু পুরো সময়জুড়ে সেটে উপস্থিত থেকে নিজের কাজের প্রতি অটল ছিলেন খোকন মোল্লা।

এই কঠিন যাত্রায় কস্টিউম টিমের সহযোগিতা, বিশেষ করে লুক ডিজাইনার ইদিলা ফরিদ তুহিনের সমর্থন, তাঁর কাজকে অনেকটাই সহজ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন খোকন মোল্লা। একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করেই গড়ে উঠেছে চরিত্রগুলোর সম্পূর্ণ লুক।

আফরান নিশোর সঙ্গে খোকন

বিশেষ করে আফরান নিশোর চরিত্র ‘শাহজাহান’-এর লুক ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও তাঁকে পাতলা পোশাকে শুট করতে হয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনেই তাঁর শরীরে ছিল কাটাছেঁড়া, আঘাতের চিহ্ন—এর জন্য প্রতিদিনই করতে হতো প্রস্থেটিক মেকআপ। প্রতিদিন সেই একই লুক, একই গভীরতা আর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। তবু থেমে থাকেননি কেউ; প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন সবাই।

চঞ্চল চৌধুরী থেকে শুরু করে পূজা চেরী—সব চরিত্রের ক্ষেত্রেই মেকআপে রাখা হয়েছে সংযম। দুই থেকে তিন শেড টোন ডাউন করে স্কিনকে আরও ন্যাচারাল, বাস্তবধর্মী করে তোলা হয়েছে। কোনো ধরনের অতিরঞ্জন নয়, বরং চরিত্রের জীবনের ক্লান্তি, চাপ আর বাস্তবতাকেই ফুটিয়ে তোলা ছিল মূল লক্ষ্য।

শুটিংয়ের ফাঁকে

সব মিলিয়ে, ‘দম’-এর রূপসজ্জা শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ নয়, এটি ছিল গল্প বলার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আর সেই গল্পকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যেতে খোকন মোল্লা ও তাঁর টিম যে পরিশ্রম করেছেন, তা নিঃসন্দেহে সিনেমাকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা।

ছবি: খোকন মোল্লা

Read full story at source