পছন্দের তালিকায় ফিরছে নব্বই দশকের অনুপ্রেরণায় ‘থ্রিফট শাড়ি’
· Prothom Alo

প্রি-লাভড ও থ্রিফট ফ্যাশন আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে অবস্থান জোরালো করেছে অনেক আগেই। এবারের নব্বই দশকের অনুপ্রেরণায় থ্রিফট ফ্যাশন ফিরেছে বাংলাদেশেও। এটা বেশ লক্ষ করা গেছে এবারের ঈদে।
প্রি-লাভড ফ্যাশন মানেই হচ্ছে কোনো কাপড় যেটা আগে পরা হয়েছে, সেটাকে আবার নতুন করে স্টাইল করা। প্রি-লাভড বা থ্রিফট ফ্যাশন বলতে অনেকেই বোঝেন কেবল পুরোনো জামা বা শাড়ি। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। পুরোনো একটা কাপড়কে নতুন রূপ দেওয়াটাই থ্রিফট ফ্যাশনের মূল কথা।
Visit h-doctor.club for more information.
তাবাসের সংগ্রহপশ্চিমা দেশগুলোতে আপসাইক্লিং ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে প্রি-লাভড ফ্যাশন পৌঁছেছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এমনকি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজিও আছেন প্রিলাভড, থ্রিফট অনুরাগীদের তালিকায়। স্বামীর শপথ অনুষ্ঠান ছাড়াও নিজের বিয়েতেও তিনি পরেন ভাড়া করা পোশাক।
পশ্চিমা ফ্যাশন থেকে প্রি-লাভড ফ্যাশনের উৎপত্তি। তাই এ দেশেও পশ্চিমা পোশাকেই প্রথম থ্রিফট ফ্যাশনের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। তবে এখন তার দেখা মিলছে শাড়িতেও। মা আর নানির আলমারি থেকে শাড়ি নিয়ে পরতে সবাই ভালোবাসেন। তবে যাঁদের সে ব্যবস্থা নেই, তাঁরা কোথায় পাবেন সেসব ‘ভিন্টেজ’ সত্তর, আশি, নব্বই দশকের শাড়ি?
লেসফিতার সংগ্রহএ বিষয়কে মাথায় রেখেই বেশ কয়েকটি অনলাইন উদ্যোগ গেল ঈদে নব্বই দশকের শাড়ির সংগ্রহ নিয়ে এসেছে। শাড়িগুলো পুরোনো, তবে প্রতিটি শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক গল্প। কোনো কোনো অনলাইন উদ্যোগ আবার বিশেষ কোনো শাড়িকে প্রাধান্য দিচ্ছে। যেমন আলতাছুনু নামের এই উদ্যোগে পাওয়া যাচ্ছে পিওর রাজশাহী সিল্কের প্রি-লাভড শাড়ি। শাড়িগুলো যেহেতু আগে বেশ কয়েকবার পরা হয়েছে এবং ক্রেতার কাছে পৌঁছাবে অনেক হাত ঘুরে, কাজেই দামও বেশ কম। এই উদ্যোগেরই আরেক অংশ লেসফিতা।
উদ্যোগটি দম্পতি ফারজানা দীপ্তি ও রনি শেখের। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম দুই জায়গাতেই তাঁরা বিক্রি করছেন থ্রিফট শাড়ি। তাঁদের সংগ্রহে ইক্কাত, বন্ধনী থেকে শুরু করে অনেক পুরোনো নকশার শাড়িরও দেখা মিলছে। এই উদ্যোগের কর্ণধার ফারজানা দীপ্তি বলেন, ‘থ্রিফট শাড়ি যেমন সবার জন্য নয়, তেমনই সবাই থ্রিফট শাড়ির জন্য নয়। যাঁরা হাজার হাজার একই রকম পণ্যের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে না ফেলে পুরোনো ও নিজস্ব কিছু নকশা ও কাপড়ে ভরসা রাখতে পারেন এবং তার মূল্য বোঝেন, তাঁদের জন্যই আমাদের থ্রিফট শাড়ির এই উদ্যোগ। তাই আমরা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ কথাটি ব্যবহার না করে বলতে পছন্দ করি ‘থ্রিফট’। শাড়ি অর্ডার করার পর যেন বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য ফেসবুকের পিনড পোস্টে দেওয়া আছে তাঁদের বিশাল সতর্কীকরণ বার্তা। উদ্যোক্তারা চান, যাঁরা এই শাড়ি নেবেন, তাঁরা যেন ভালোবেসে নেন।
এ রকমই থ্রিফট শাড়ির আরও দুটি অনলাইন উদ্যোগ হচ্ছে ‘রী’ ও ‘নহর’। রী-তে পাওয়া যাচ্ছে কারচুপি, জারদৌসি, সিকুইনের কাজ করা সুন্দর সব জর্জেট শাড়ি। নব্বই দশকে এ রকম জর্জেট শাড়ির জনপ্রিয়তা ছিল শীর্ষে। যেসব মা শাড়ি পরতে ভালোবাসতেন বা এখনো বাসেন, তাঁদের প্রত্যেকের আলমারি ঘাঁটলেই এমন দু-একটি শাড়ির দেখা মিলবে সহজেই। জর্জেট শাড়ি পরতে আরাম এবং পরাও সহজ। ভিজলে তাড়াতাড়ি শুকায়। এসব গুণের জন্য হাল ফ্যাশনে এ শাড়ির কদর কমেনি একরত্তিও। সিকুয়েন্সের নকশার জর্জেট তাই আবার ট্রেন্ডে ফিরছে পুরোদমে।
নহর। উদ্যোগটি আবার প্রতিটি প্রি-লাভড শাড়ির জন্য দেন আলাদা আলাদা নাম। প্রতিটি নামই সুন্দর। সাধারণত ৩০০-১০০০ টাকায় শাড়ি বিক্রি করেন তাঁরা। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম উদ্যোগ তাবা’স থ্রিফটস অরগ্যাঞ্জা, প্রিন্টেড জর্জেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি নিয়ে এসেছে তাঁদের সংগ্রহে।
আলতাছুনুর সংগ্রহশাড়িগুলো অবশ্যই ধুয়ে আপসাইক্লিংয়ের করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। ভিনদেশি পণ্যের জৌলুশে অতীতের এক টুকরা স্মৃতি নামমাত্র মূল্যে কিনে প্রি-লাভড ও টেকসই ফ্যাশনকে আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন আপনিও।
ছবি: উদ্যোগের ইন্সটাগ্রাম