নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন মা-বাবা যা করবেন

· Prothom Alo

নবজাতকের যত্ন শুধু জন্মের পর কয়েক দিনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ধারাবাহিক সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন মা-বাবার সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক যত্ন

তাপমাত্রা: জন্মের পর নবজাতকের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে হবে। পোশাক ও বিছানা যতটা সম্ভব কম রাখতে হবে।

Visit freshyourfeel.org for more information.

পরীক্ষা: শ্বাসকষ্ট, ফ্যাকাশে ও অস্বাভাবিক লালভাব, সায়ানোসিস, জন্ডিস, কাঁপুনি, পেশির দুর্বলতা ও জন্মগত ত্রুটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

ওজন: ওজন স্বাভাবিক, কম বা বেশি হিসেবে ভাগ করতে হবে। গর্ভকাল অনুযায়ী ওজনের চার্টে এটি অঙ্কন করে রাখতে হবে।

ত্বকের যত্ন: ত্বক একটি সুরক্ষামূলক অঙ্গ। এর যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু মুখের ভার্নিক্স পরিষ্কার করা উচিত। মুখ, ঘাড়, পায়ুপথের এলাকা থেকে রক্ত ও মিকোনিয়াম সাবধানে গরম পানি ও জীবাণুমুক্ত তুলার স্পঞ্জ দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ডায়াপারের এলাকা গরম পানিতে ভেজানো তুলার স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। অপরিণত শিশুকে (ওজন দুই কেজির কম) জীবাণুমুক্ত গরম পানি দিয়ে প্রথম সপ্তাহে গোসল করাতে হবে।

ওজন এক কেজির কম হলে দ্বিতীয় সপ্তাহে শুধু গরম পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে। ত্বক পরীক্ষা করে আঘাত বা সংক্রমণের চিহ্ন আছে কি না দেখতে হবে।

কোনো আঁচড় থাকলে সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

নাড়ির যত্ন: প্লাস্টিক কর্ড ক্ল্যাম্প ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে নাড়ির গোড়া থেকে প্রায় ২.৫ সেন্টিমিটার অংশ ফেলে রাখা হয়।

চোখের যত্ন: জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে ১% সিলভার নাইট্রেট ড্রপ বা ইরিথ্রোমাইসিন অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরবর্তী সময়কালে যত্ন

নিয়মিত ওজন মাপা: প্রতিদিন শিশুর ওজন মাপতে হবে। ভর্তি হওয়ার সময় দৈর্ঘ্য ও মাথার পরিধি মাপতে হবে। অন্তত প্রতি ৮ ঘণ্টায় শিশুর মলমূত্র ত্যাগের সময় ও পরিমাণ লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রতি ৪ ঘণ্টায় শিশুর নাড়ির স্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস ও তাপমাত্রা লিপিবদ্ধ করতে হবে।     

খাদ্য গ্রহণ: নবজাতককে শুধু স্তন্যপান করানো যাবে। জন্মের আধা ঘণ্টা ও ৬ ঘণ্টার মধ্যে মাকে শিশুকে স্তন্যপান করাতে সাহায্য করতে হবে।

স্তন্য গ্রহণের ধরন: মাকে শিশুর সঠিক অবস্থান ও স্তন্য গ্রহণের ধরন শেখাতে হবে। মা-শিশুকে একই কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

শিশুর ঘুমের ভঙ্গি: প্রথম কয়েক দিন সাধারণত পাশ ফিরে শোয়ানো উচিত। এরপর চিৎ হয়ে শোয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

রোজ সকালে আদা, মধু ও কালিজিরা খেলে কী হয়? কাদের খাওয়া বারণ?

Read full story at source