সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ‘তথ্যসন্ত্রাস’
· Prothom Alo

আমরা কেমন সমাজ চাই? এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তথ্যের নামে যেকোনো কিছু ছড়ানো যাবে নাকি এমন একটি পরিসর, যেখানে কথা বলার সুযোগ থাকবে, কিন্তু তা অন্যের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মিল রেখে ব্যবহার করা হবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
বাংলাদেশ এখন পরিবর্তনের এক সময় পার করছে। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর মানুষ আগের চেয়ে বেশি খোলামেলা কথা বলছে, মত দিচ্ছে, প্রশ্ন তুলছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ। তবে একই সঙ্গে বাড়ছে ভুয়া খবর, বিকৃত ছবি আর মানুষকে হেয় করার প্রবণতা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আমরা সত্যিই মতপ্রকাশ করছি নাকি ‘তথ্যসন্ত্রাস’-এর দিকে যাচ্ছি?
Visit asg-reflektory.pl for more information.
সম্প্রতি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান দেখিয়েছে, একটি বিকৃত ছবি কীভাবে দ্রুত উত্তেজনা তৈরি করে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এ ধরনের ভুল তথ্য একবার ছড়ালে তা থামানো কঠিন; একটার পর একটা গুজব মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও বিভাজন বাড়ায়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটা বিষয়—‘বটবাহিনী’। দেখা যাচ্ছে, অনেক ভুয়া আইডি একসঙ্গে একই কথা ছড়াচ্ছে, নির্দিষ্ট মানুষ বা গোষ্ঠীকে টার্গেট করছে। এটা আর ব্যক্তিগত মতামত থাকছে না; বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটা অনলাইন কৌশল। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, তাদের চিন্তাকে প্রভাবিত করা এবং একটা নির্দিষ্ট অবস্থানকে দুর্বল করা।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, এই আক্রমণ শুধু রাজনীতির মধ্যে আটকে নেই। নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, তাঁদের ছবি বিকৃত করা হচ্ছে; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মাজার, ধর্মীয় জায়গাগুলোও রেহাই পাচ্ছে না—এমনকি মুক্তিযুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ রকম কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে ভয়, রাগ আর অবিশ্বাস বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
মতপ্রকাশের সীমা: আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান
এই যে বিকৃত ছবি ছড়ানো, মানুষকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালানো—এসব কি সত্যিই স্বাধীন মতপ্রকাশের অংশ? আন্তর্জাতিক আইন এই জায়গায় আমাদের একটা সহজ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।
ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটসের ধারা ১৯–এ বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষের নিজের মতামত রাখার এবং তা প্রকাশ করার অধিকার আছে (ইউডিএইচআর, ১৯৪৮, অনুচ্ছেদ ১৯)। সহজভাবে বললে, আপনি কী ভাবছেন বা কী বলছেন—সেটা প্রকাশ করা আপনার মৌলিক অধিকার।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের অনুচ্ছেদ ১৯(৩)–এ বলা হয়েছে, এই অধিকার ব্যবহার করতে গেলে কিছু দায়িত্বও আছে। আর প্রয়োজন হলে আইন করে এই অধিকার সীমিত করা যেতে পারে—যদি তা অন্যের সুনাম নষ্ট করে, কারও ক্ষতি করে বা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে (আইসিসিপিআর, ১৯৬৬)। সহজ করে বললে, মতপ্রকাশের অধিকার আছে, কিন্তু ‘যা খুশি তা–ই বলা’—এর মধ্যে পড়ে না।
বিষয়টা আরও সহজভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিটি তাদের সাধারণ মন্তব্য নম্বর ৩৪–এ (২০১১) । সেখানে বলা হয়েছে, আপনি যা বলছেন, তার একটা প্রভাব পড়ে—শুধু আপনার ওপর নয়, অন্যদের ওপরও। তাই কথা বলার সময় বিষয়টা মাথায় রাখতে হয় যে এতে কারও ক্ষতি হচ্ছে কি না। যদি কোনো বক্তব্য কারও সম্মান নষ্ট করে বা মানুষকে উসকে দেয়, তাহলে সেটাকে আর সাধারণ মতপ্রকাশ বলা যায় না (এইচআরসি, ২০১১, অনুচ্ছেদ ২১)।
এসব ধারণা হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে ইতিহাসের একটা কঠিন অভিজ্ঞতা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নাৎসি বাহিনী মিথ্যা প্রচারণা ছড়িয়ে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরই আন্তর্জাতিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—মানুষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে; কিন্তু সেই অধিকার ব্যবহার করে যেন ঘৃণা বা ধ্বংস না ছড়ানো যায়।
আজকের বাস্তবতায়, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, সেই একই ঝুঁকি নতুনভাবে সামনে এসেছে। পার্থক্য শুধু একটাই—আগে প্রচারণা চালাতে সময় লাগত, এখন কয়েক মিনিটেই তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই এখন প্রশ্নটা আরও জরুরি—আমরা কী বলছি আর সেই কথার প্রভাব কোথায় গিয়ে পড়ছে?
আদালতের রায় ও বিশ্বের অভিজ্ঞতা
পুরো বিষয়টা বুঝতে গেলে শুধু তত্ত্ব নয়, বাস্তব উদাহরণও দেখা দরকার। প্রথমে ধরা যাক, ডেলফি এএস ভার্সেস এস্তোনিয়া মামলা। ২০০৬ সালে এস্তোনিয়ার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেলফি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে একটি ফেরি কোম্পানির ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই পাঠকেরা নিচে মন্তব্য করতে শুরু করেন।
সমস্যা হয় তখন, যখন কিছু মন্তব্য খুবই অপমানজনক ও হুমকির পর্যায়ে চলে যায়। ডেলফি প্রথমে সেগুলো সরায়নি। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে গেলে ডেলফির যুক্তি ছিল—এই মন্তব্য তারা লেখেনি, তাই তারা দায়ী নয়। কিন্তু ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) ভিন্নকথা বলে। আদালত জানান, ডেলফির মতো বড় প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব ছিল এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা। তারা জানার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্ল্যাটফর্মকেও দায়ী ধরা হয় (ডেলফি এএস ভার্সেস এস্তোনিয়া, অ্যাপ্লিকেশন নম্বর ৬৪৫৬৯/০৯, ২০১৫; ইসিএইচআর, অনুচ্ছেদ ১১০–১১৩)।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডেনবার্গ ভার্সেস ওহাইও মামলা ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়। ১৯৬০-এর দশকে ক্ল্যারেন্স ব্র্যান্ডেনবার্গ, যিনি কু ক্লাক্স ক্ল্যান নামে একটি কুখ্যাত বর্ণবাদী গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, টেলিভিশনে উগ্র বক্তব্য দেন। এরপর তাঁকে দোষী করা হলেও তিনি আপিল করে সুপ্রিম কোর্টে যান।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাহিত্য বা শিল্পের একটি শর্ত১৯৬৯ সালে আদালত রায় দেন—শুধু কঠিন বা আপত্তিকর কথা বললেই শাস্তি দেওয়া যাবে না, বক্তব্য তখনই থামানো যাবে, যখন তা সরাসরি সহিংসতা উসকে দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটার আশঙ্কা থাকে। এটাকেই বলা হয় ‘ইমিনেন্ট ল’লেস অ্যাকশন’ (ব্র্যান্ডেনবার্গ ভার্সেস ওহাইও, ৩৯৫ ইউএস ৪৪৪, ১৯৬৯)।
দুই আদালতের এই দুই রায় আমাদের একটা ভারসাম্য শেখায়—সংবাদমাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মেরও দায়িত্ব আছে এবং মতপ্রকাশ তখনই থামানো যাবে, যখন তা সরাসরি সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট ২০২২ চালু করেছে। এখানে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে বাধ্য করা হয়েছে, যেন তারা ভুয়া তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং সামাজিক ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে (ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ২০২২, আর্টস. ৩৪–৩৫)।
জার্মানি আরও এক ধাপ এগিয়ে নেটওয়ার্ক এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট (নেটজডিজি) চালু করেছে। এই আইনে বলা হয়েছে, স্পষ্টভাবে বেআইনি কনটেন্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে হবে, না হলে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। তবে এই আইনের সমালোচনাও আছে—অনেকে মনে করেন, এতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি থাকে। তাই শিক্ষা একটাই—আইন দরকার; কিন্তু সেটি যেন ভারসাম্য হারিয়ে না ফেলে।
শুধু আইন নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাও আমাদের সতর্ক করে। ২০১৩ সালে মিসরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ভুয়া তথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে কপটিক খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা হয়, যেখানে ৪২টির বেশি চার্চ ও তাদের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ২০১৩, ইজিপ্ট: ম্যাস অ্যাটাকস অন চার্চেস, ২১ আগস্ট ২০১৩)
বাঙালির গুজব কিন্তু ফেলনা নয়ইন্দোনেশিয়ায় ১৯৯৮ সালে সুহার্তোর পতনের পর গুজব ও বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জাতিগত দাঙ্গায় রূপ নেয় এবং এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। (এবিসি নিউজ, মে ২০২৩, ২৫ ইয়ার্স অন: ভিকটিমস অব ১৯৯৮ ভায়োলেন্স ফাইট ফর জাস্টিস)।
মিয়ানমারেও একই চিত্র দেখা যায়—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ঘৃণামূলক বক্তব্য রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বাস্তব সহিংসতায় রূপ নেয়। (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, মিয়ানমার: ফেসবুক’স সিস্টেমস প্রোমোটেড ভায়োলেন্স এগেইনস্ট রোহিঙ্গা)
এই উদাহরণগুলো আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—অনলাইনে যা শুরু হয়, তা অনেক সময় সেখানেই থামে না। যদি সময়মতো থামানো না যায়, সেটি বাস্তব জীবনে ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
স্বাধীনতা, দায়িত্ব ও রাষ্ট্রের নতুন পরীক্ষা
এই পুরো আলোচনার পর আবার বাংলাদেশের কথায় ফিরে আসা দরকার। আমরা এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে অতীত আর বর্তমান—দুই দিকের চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮–এর প্রয়োগ নিয়ে অনেকের অভিযোগ ছিল। সেই অভিজ্ঞতা মানুষের মনে একটা দীর্ঘস্থায়ী সন্দেহ তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পেছনেও এই অসন্তোষের ভূমিকা ছিল—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই এখন নতুন কিছু করার কথা উঠলেই অনেকেই ভাবেন—আবার কি আগের মতো নিয়ন্ত্রণ শুরু হবে?
কিন্তু এখন যে বাস্তবতা সামনে এসেছে, সেটাও কম জটিল নয়। অনলাইনে দ্রুত ছড়াচ্ছে বিকৃত ছবি, ভুল তথ্য আর সমন্বিত অপপ্রচার। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু আর ভিন্নমতের মানুষদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু অনলাইনে আটকে থাকছে না; বাস্তব সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে, মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
ডিজিটাল যুগে তথ্য না অপতথ্য: দ্বিধার বাস্তবতায় আমাদের করণীয়এই জায়গায় রাষ্ট্রের জন্য বিষয়টা মোকাবিলা করা সহজ নয়। কিছু করলেই বলা হয়, ‘স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’; কিছু না করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটা দায়িত্বশীল পথ বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এখানে প্রথমেই একটা বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার, সরকারের সমালোচনা করা, প্রশ্ন তোলা, ভিন্নমত দেওয়া—এসব একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয়। এগুলোকে অপরাধ বানানো যাবে না। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মেনে নিতে হবে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো, কাউকে অপমান করা বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়া—এসবকে ‘মতপ্রকাশ’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। নিজের কথা বলার অধিকার আছে, কিন্তু সেই কারণে অন্যের সম্মান বা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি গ্রহণযোগ্য থাকে না।
সবচেয়ে কঠিন জায়গাটা হলো, এই সীমারেখা ঠিক করা। কোনটা যুক্তিসংগত মতামত আর কোনটা অপপ্রচার বা উসকানি—এটা আলাদা করে চিহ্নিত করা জরুরি। এই পার্থক্য যদি পরিষ্কার না হয়, তাহলে ধীরে ধীরে জনপরিসরে বিভ্রান্তি বাড়বে আর সত্য-মিথ্যার ভেদরেখা ঝাপসা হয়ে যাবে।
এখানেই নীতিনির্ধারণের পদ্ধতিটা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো আইন একতরফাভাবে নয়; বরং রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও শিক্ষাবিদ—সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করেই করা উচিত। কী করা হচ্ছে, কেন করা হচ্ছে আর অপব্যবহার কীভাবে ঠেকানো হবে—এগুলো পরিষ্কার না হলে মানুষের আস্থা তৈরি হবে না।
গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সংসদ পাওয়া গেছে—এটা একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যদি গ্রহণযোগ্য আইন তৈরি করা যায়, সেটাই হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সরল—আমরা কেমন সমাজ চাই? এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তথ্যের নামে যেকোনো কিছু ছড়ানো যাবে নাকি এমন একটি পরিসর, যেখানে কথা বলার সুযোগ থাকবে, কিন্তু তা অন্যের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মিল রেখে ব্যবহার করা হবে?
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব