সরকার জ্বালানি অপরাধীদের বিচারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না: ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা
· Prothom Alo

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, সরকার যখন ক্ষমতায় বসেছে, তখন তাদের জ্বালানির সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সরকার জ্বালানি অপরাধীদের বিচারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। তাহলে কি তারা আওয়ামী লীগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে, তাদের জুতা পরে হাঁটছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
Visit newsbetting.club for more information.
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জ্বালানিসংকটের কারণ ও প্রভাব এবং সমাধান’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (সিআইপিজি)।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন এম শামসুল আলম অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিশেষ আইন ও বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে অলিগার্ক বা অসাধু ব্যবসায়ীদের উত্থান ঘটে। রাষ্ট্র এই খাতকে ‘সেবা খাত’ থেকে ‘বাণিজ্যিক খাতে’ রূপান্তর করায় এটি এখন লুণ্ঠন ও দুর্নীতির চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নানা সংস্কারের কথা বললেও কাঠামোগত রূপান্তরিত জ্বালানিব্যবস্থাকে অক্ষত রেখে দুর্নীতি ও লুণ্ঠনকে সুরক্ষা দিয়েছে।
লুণ্ঠনকারী ও জ্বালানি অপরাধীদের বিচারের গেজেট কেন প্রকাশ হবে না—এমন প্রশ্ন তোলেন শামসুল আলম। বর্তমান সরকারকে তেল-গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করতে হবে বলেন তিনি।
অধ্যাপক আলম জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত থেকে আবার ‘সেবা খাতে’ ফিরিয়ে আনা, মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও মুনাফা কমিয়ে ভর্তুকি ও ঘাটতি সমন্বয় করা, বিইআরসিকে সক্ষম ও কার্যকর করা, মন্ত্রণালয়কে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা বোর্ড থেকে সরিয়ে দিয়ে স্বার্থ সংঘাতমুক্ত করা এবং জ্বালানি অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা ও প্রয়োজনে গণবিরোধী চুক্তি ও আইন বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছেন সেমিনারে।
পাঁচ সুপারিশ
সেমিনারে পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো জ্বালানি খাতকে আবার ‘সেবাখাত’ হিসেবে ঘোষণা করা, মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও অযৌক্তিক মুনাফা কমিয়ে ভর্তুকি সমন্বয় করা, বিইআরসিকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা এবং জ্বালানি অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, স্বার্থের সংঘাত এড়াতে মন্ত্রণালয়কে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা বোর্ড থেকে সরিয়ে আনা, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।
সেমিনারের আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আবদুল মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি প্রফেসর বদরুল ঈমাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ওয়ারেসুল করিম, সিনিয়র সচিব (অব.) খ ম কবিরুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাশেদুল হক, অতিরিক্ত সচিব (অব.) ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ, আইনজীবী বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও সিআইপিজির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব (অব.) মু. আবদুল কাইয়ূম।