মিটার চুরির টাকা ওঠাতে গিয়ে ‘চিরকুট পার্টি’র এক সদস্য গ্রেপ্তার

· Prothom Alo

মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাবি করা টাকা তুলতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বৈদ্যুতিক মিটার চোর চক্র ‘চিরকুট পার্টি’–এর এক সদস্য। গতকাল শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় চুরি হওয়া ১৪টি মিটার গতকাল রাতে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রাশিদ হাসান (২৪)। তিনি সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার চৌরিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, গত বুধবার রাতে উপজেলার ঝিকড়া এলাকা থেকে ২০টি মিটার চুরি হয়। এর মধ্যে সেচপাম্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক মিটার ছিল। মিটার চুরির পর সেখানে মুঠোফোন ও সিরিয়াল নম্বর লেখা একটি চিরকুট রেখে যায় চক্রটি। স্থানীয়ভাবে চক্রটি ‘চিরকুট পার্টি’ নামে পরিচিত। অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাশিদ হাসানকে আটক করা হয়। টাকা তোলার সময় তাঁকে ধরা হয়। পরে রাশিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঝিকড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝোপঝাড়, খড়ের পালা ও ইটের স্তূপ থেকে ১৪টি মিটার উদ্ধার করা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দুই বছরে চক্রটি রাজশাহীর বাগমারা এলাকা থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় দেড় হাজার মিটার চুরি করেছে। এ ঘটনায় তিন শতাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর ভবানীগঞ্জ আঞ্চলিক দপ্তরের মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে সক্রিয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভাতেও আলোচনা হয়েছে। তবে হয়রানির আশঙ্কায় অনেক গ্রাহক থানায় না গিয়ে চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করে মিটার ফেরত নেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশিদ রাজশাহী এলাকায় মিটার চুরির কথা স্বীকার করেছেন। দিনের বেলায় এলাকায় ঘুরে চক্রটির সদস্যরা মিটারের অবস্থান ও ধরন সম্পর্কে তথ্য নেন। পরে রাতে ভাড়া করা গাড়িতে এসে মিটার খুলে গোপন স্থানে রেখে যেতেন।

শিহাব উদ্দীন আরও বলেন, চিরকুটে দেওয়া নম্বরে শুধু মিটারের মালিকদের সঙ্গেই কথা বলা হতো। টাকা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত নম্বরটিও অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ছিল। তবে ক্যাশআউট করার সময় রাশিদকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুরি হওয়া মিটার গ্রাহকদের টাকা দিয়ে কিনতে হওয়ার বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বলেন, মিটার গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাঁর। তাই মিটার হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহককেই নতুন মিটার কিনতে হয়। প্রতিটি মিটারের দাম ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা।

Read full story at source