প্রার্থী হতে ভোটারদের সইয়ের শর্ত বাদ, জামানত বাড়ানোর চিন্তা

· Prothom Alo

ভোট হবে দলীয় প্রতীক ছাড়া।

‘ডামি’ প্রার্থী ঠেকাতে জামানত বাড়ানোর চিন্তা।

Visit afnews.co.za for more information.

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকার পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আইন সংশোধনের ফলে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক ছাড়া। এ কারণে নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এর অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটারদের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিধান বাদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।

ইতিমধ্যে আইন সংশোধন করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র/চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এ–সংক্রান্ত নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক কিছু কাজ এগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত পরিষদ ভেঙে প্রশাসক বসানো হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন করে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসায়। স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্প্রতি বিএনপি ও দলটির তিন সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিগগিরই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন হবে। অন্যদিকে ইসিও নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় বিধি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, আজ বুধবার ইসির আইন ও বিধি সংস্কারসংক্রান্ত কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার কোথায় কোথায় সংশোধন দরকার, তা নিয়ে আলোচনা হবে। জামানতের বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে। কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তা পরে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। কমিশন অনুমোদন করলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

এর আগে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানত ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারের সমর্থনসূচক সইসহ তালিকা জমা দেওয়ার বিধানও বাদ দেওয়া হয়।

ইসির একটি সূত্র জানায়, বর্তমান কমিশন মনে করছে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিধান বাদ দিলে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। অনেকে অহেতুক বা ‘ডামি’ প্রার্থী হতে পারেন। এতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি সামলাতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

তবে উপজেলা নির্বাচনে যেভাবে আগের কমিশন জামানতের পরিমাণ ১০ গুণ বাড়িয়েছে, সেটাকে যৌক্তিক মনে করছেন না বর্তমান কমিশনের কেউ কেউ। তাঁরা চান, জামানত এমনভাবে বাড়ানো হোক যাতে তা প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ না হয়; আবার এত কমও না থাকে যে অহেতুক প্রার্থিতা বেড়ে যায়।

বর্তমানে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা। পৌরসভার মেয়র পদে ভোটারের সংখ্যাভেদে জামানত ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা, কাউন্সিলর পদে ৫ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে জামানত ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।

ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল, ইভিএমে ভোটের বিধান বাদ দেওয়াসহ আরও কিছু সংশোধনী আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসির আইন ও বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ প্রথম আলোকে বলেন, আজ তাঁদের কমিটির বৈঠক রয়েছে। বৈঠক শেষে জামানত বাড়ানোর বিষয়ে বলা যাবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় কী কী সংশোধন দরকার, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে।

Read full story at source