ঢাবিতে ৬ হলে জাতীয় ছাত্রশক্তির আংশিক কমিটি ঘোষণা
· Prothom Alo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছয়টি আবাসিক হলে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটি জানিয়েছে, কমিটি গঠনের মাধ্যমে তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে চায়। তবে কমিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন অনেকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ এক বছরের জন্য এই কমিটি অনুমোদন দেন।
Visit mchezo.co.za for more information.
মাস্টারদা সূর্য সেন হল, বিজয় একাত্তর হল,শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, অমর একুশে হলে আংশিক কমিটি দিয়েছে সংগঠনটি। তবে কমিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তারা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে করা বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করেছেন।
ফেসবুকে ভিডিও শেয়ার দিয়ে অনেকে লিখেছেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার হল কমিটি প্রকাশ করল ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রক্সি ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’।
গত বছরের ৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা হল কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। মাস্টারদা সূর্য সেন, মুহসীন ও রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা সেদিনই রাত ১২টার পর বিক্ষোভ করেন। তখন তাঁরা ‘হল পলিটিকসের ঠিকানা/এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধ/শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। ওই বিক্ষোভে জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহকেও অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
আট মাস আগে আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে নিজেদের সংগঠন থেকেই আবাসিক হলে কেন কমিটি দেওয়া হলো জানতে চাইলে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হলগুলোতে ছাত্রদলের কমিটি রয়েছে, বাম সংগঠনের কমিটি রয়েছে এবং ছাত্রশিবিরেরও কমিটি রয়েছে; কিন্তু তারা সেগুলো প্রকাশ করে না। হলগুলোতে ছাত্রসংগঠনের ভারসাম্য যেন থাকে, কোনো একটা সংগঠন একক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে না পারে, সেই ভারসাম্যের জায়গা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা হল কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মো. সাইফুল্লাহ আরও বলেন, যখন হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়, তখন আমাদের কমিটমেন্টের জায়গা থেকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা সব ছাত্রসংগঠন একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল; কিন্ত ৫ আগস্টের পরে বাম সংগঠন এবং ছাত্রদল হলে কমিটি দেয়।
অপর দিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরীর একটি ভিডিও নিয়েও সমালোচনা করা হচ্ছে। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কোনো দলীয় লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি ক্যাম্পাসে চাই না। আমরা হলগুলোতে কোনো রাজনীতি চাই না। একাডেমিক ভবন এবং হল, এটি কোনো রাজনীতি করার জায়গা না।’
কী কারণে ছাত্রশক্তি আবাসিক হলগুলোতে কমিটি দিয়েছে জানতে চাইলে তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমাদের কাছে সুযোগ এসেছিল, ছাত্ররাজনীতির সংস্কার এবং নতুন ছাত্ররাজনীতির রূপরেখা প্রণয়নের। আমাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণ বিদ্যমান রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর অসহযোগিতা এবং পুরোনো কাঠামোয় থাকার প্রবণতা।’
তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী আরও বলেন, আমরা জুলাইয়ের গণরুম, গেস্টরুম–বিরোধী জনরায়কে বাস্তবায়ন, হলগুলোতে কোন ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হওয়া থেকে রক্ষা, ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের বৈধ সিটের অধিকার নিশ্চিতের জন্য হলে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছয়টি আংশিক হল কমিটি প্রকাশ করে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য হলগুলোর কমিটি প্রকাশ করা হবে।