রাজশাহী বোটানিক্যাল গার্ডেনে আসছে আটটি ময়ূর, গাছপালা অক্ষত রেখেই বানানো হচ্ছে খাঁচা

· Prothom Alo

রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঢাকার চিড়িয়াখানা থেকে আনা হচ্ছে আটটি ময়ূর। তাদের জন্য কিছুটা প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গাছপালা অক্ষত রেখেই নির্মাণ করা হচ্ছে বিশেষ খাঁচা। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই খাঁচা নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৭৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন’। এর আগে ২০২৩ সালে সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৎকালীন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন চিড়িয়াখানার কিছু পশুপাখি বিক্রি করে দেন এবং কিছু অনুদান হিসেবে বিভিন্নজনকে দিয়ে দেন। তখন নতুন করে পশুপাখি না আনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।

Visit michezonews.co.za for more information.

বর্তমানে বোটানিক্যাল গার্ডেনে আছে ১২৯টি চিত্রা হরিণ, ২টি ঘড়িয়াল, ৩টি বানর, ৯৬টি কবুতর, ২৩টি খরগোশ, ২টি রাজহাঁস ও ৫টি টিয়া। এ ছাড়া উদ্ধার করা একটি হনুমান, দুটি বালিহাঁস ও দুটি কালিম পাখি আছে। কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থান থেকে তিনটি চিনা হাঁস, দুটি পাতিহাঁস, দুটি সাদা-ধূসর ঘুঘু, দুটি তিতির মুরগি ও তিনটি চখা এনে সংরক্ষণ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চিড়িয়াখানায় লুটপাটের সময় একটি রাজহাঁস নিয়ে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। পরে পাঁচ মাস পর সেটি ফিরিয়ে দেন।

এই পরিস্থিতিতে আবারও বোটানিক্যাল গার্ডেনে নতুন পশুপাখি আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। গত ডিসেম্বর থেকে থোক বরাদ্দের অর্থে ঘড়িয়ালের পুকুরের পাশে ময়ূরের খাঁচা নির্মাণকাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গোলাকারভাবে ঘেরা এই খাঁচা উঁচু করে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে ময়ূরগুলো এক গাছ থেকে আরেক গাছে উড়ে যেতে পারে এবং অবাধে বিচরণ করতে পারে। ভেতরে থাকা অর্জুনগাছসহ কয়েকটি গাছ কাটা হবে না।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী নীলুফার ইয়াসমিন জানান, এই খাঁচা নির্মাণের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প করা হয়নি। একটা থোক বরাদ্দ থেকে ৭৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় করে ময়ূরের খাঁচাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। জুনের মধ্যে খাঁচার নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। তাঁরা খাঁচার ভেতরের কোনো গাছ কাটবেন না। ওইভাবেই থাকবে।

রাজশাহী বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক চারটি মেয়ে ও চারটা ছেলে ময়ূর তারা রাজশাহীতে দেবে। চারটির দাম দিতে হবে। আর বাকি চারটি অনুদান হিসেবে দেবে। একেকটি ময়ূরের দাম ধরা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

নগরবাসীর বিনোদনের চাহিদা পূরণে ব্রিটিশ আমলের ঘোড়দৌড়ের মাঠে তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক আবদুর রউফের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে এই উদ্যান ও চিড়িয়াখানার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৩৩ একর আয়তনের উদ্যানটি ১৯৯৬ সালে জেলা পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Read full story at source