রাখাইনদের রক্ষায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাই
· Prothom Alo

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা–কলাপাড়ার আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্য বড় ধরনের অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়েছে। বহু বছর ধরে রাখাইন সম্প্রদায়ের বিপন্নতা নিয়ে নাগরিক সমাজ সোচ্চার হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন কেবল অবনতির দিকে গিয়েছে।
Visit bettingx.club for more information.
প্রথম আলোর সংবাদ জানাচ্ছে, সম্প্রতি নাগরিক প্রতিনিধিদল ‘সিটিজেন ফর হিউম্যান রাইটস’ কুয়াকাটা-কলাপাড়ার কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে রাখাইন সম্প্রদায়ের ভূমি সমস্যা ও অস্তিত্বসংকটের বিষয়টি আবারও উঠে আসে। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, তারা কেবল জমিই হারাচ্ছে না, তাদের শ্মশানভূমিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি সেখানকার এক বৌদ্ধবিহারের জমিও দখল করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের ২ একর ৪৪ শতাংশ জমির মধ্যে এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। বিহারের দেয়াল ঘেঁষে টয়লেট বানানোর কারণে বিহারের পবিত্রতাও রক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এগুলো একটা জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনযাপন ধ্বংসের ধ্রুপদি নজির।
ভূমি–সংকটের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীর সংকটের কথাও প্রতিনিধিদল জানিয়েছে। জমি দখলে প্রভাবশালী বাঙালিদের সম্পৃক্ততার কথা ফুটে উঠেছে রাখাইনদের বক্তব্যে। এ ছাড়া উন্নয়নের নামে রাখাইনদের উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনে চরম উদাসীনতার পরিচয় পাওয়া যায়। ২০২১ সালে পায়রা বন্দর কর্তৃক উচ্ছেদকৃত কয়েকটি পরিবারের পুনর্বাসন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হয়নি। মাসিক সামান্য আর্থিক সহায়তাও ছয় মাস পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো কষ্টেসৃষ্টে জীবন যাপন করে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পূর্বে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, রাখাইন জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে এভাবে কোণঠাসা করে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা মনে করি, দেশের প্রত্যেক নাগরিক ও গোষ্ঠীর সম–অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেখভালের দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের।
সরকারকে রাখাইন সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের জমি দখল ঠেকাতে ও বেদখল জমি উদ্ধারে আশু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। রাখাইনদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনযাপনকে কেবল সুরক্ষাই নয়, বিকাশেরও সমান সুযোগ করে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানিয়ে এলেও এর কোনো প্রতিকার এখনো পাওয়া যাচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। পাশাপাশি, উন্নয়ন প্রকল্পের ভুক্তভোগীদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।