এআই এআই ডাক পাড়ি, মোদের এআই কার বাড়ি
· Prothom Alo

১১ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। ওই সময় এশিয়া অঞ্চলের ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক উন্নয়নকর্মীদের এক সভায় যোগ দিতে আমি ছিলাম ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায়। সভার আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোগ্রেসিভ কমিউনিকেশন (এপিস) প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডিজিটাল অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় চার দশক ধরে কাজ করছে।
Visit orlando-books.blog for more information.
এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের আলোচনার কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত চলে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ম্যানিলাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। এমনকি একটি সেশনের শুরুতে সঞ্চালক যখন ‘প্রশ্ন’ না করে ‘প্রম্পট’ দিলেন, তখন আমরা বুঝলাম এআই এর মধ্যে সংস্কৃতিতেও ঢুকতে শুরু করেছে!
আলোচনায় নানা বিষয় উঠে এলেও প্রায় সব পথই গিয়ে এআইতে মিশেছে। কেউ কেউ এআই শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন, কেউ বলেন ভাষাগত বৈষম্য কমাবে, কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তথ্যের মালিকানা, কর্মসংস্থান কিংবা অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত নিয়ে। এআই আর শুধু প্রযুক্তির আলোচনার বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সমাজের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
বলা বাহুল্য, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর, যেদিন ওপেনআই তাদের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে, এর পরদিন থেকেই এই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এখন আর এটি শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিয়ে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে, বিভিন্ন দেশ জাতীয় এআই কৌশল প্রণয়ন করছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন পাঠ্যক্রম চালু করছে, আর তরুণেরা নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য এআইয়ের দ্বারস্থ হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা স্মার্টফোনের মতোই এআই আগামী কয়েক দশকে অর্থনীতি ও সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।
একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার করছে, একজন উদ্যোক্তা ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি করছে, একজন শিক্ষক পাঠ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন, একজন ডিজাইনার ছবি বানাচ্ছেন, একজন লেখক খসড়া তৈরি করছেন। যে প্রযুক্তি গবেষণাগার থেকে বের হয়ে শিক্ষা, সাহিত্য, গল্প, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করে, সেটি আর শুধু প্রযুক্তি থাকে না; সেটি সমাজের অংশ হয়ে যায়।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেটে এআইয়ের উপস্থিতি না থাকার কোনো কারণ ছিল না।
বাজেটে এআই—প্রয়োগে জোর বেশি
যদিও বাজেট বক্তৃতায় এআই নিয়ে খুব বিস্তৃত আলোচনা ছিল না। কিন্তু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এমবিবিএস কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে (অনুচ্ছেদ-১১০)। বলা হয়েছে, এআই, মেশিন লার্নিং, রোবটিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং বিগ ডেটা অ্যানালাইসিসের জন্য বিশেষ গবেষণাগার স্থাপনের কথাও রয়েছে ( অনুচ্ছেদ -১৬৬)। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের আলোচনায় সরকারি সেবায় এআই ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্মার্ট সিটি উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় এআই অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ১৭১-১৭৪)। স্বাস্থ্য, কৃষি ও জনসেবামূলক খাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে বাজেটে এআইয়ের উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তবে এই উপস্থিতি মূলত এআইয়ের ব্যবহার বা প্রয়োগকেন্দ্রিক।
সম্প্রতি ট্রাফিক–ব্যবস্থায় এআই ক্যামেরার সাফল্য আমরা দেখেছি। আমার ভয়, এ থেকে আমাদের ‘হুজুগে’ মনোবৃত্তি, দরকার না থাকলেও এআই ব্যবহার করতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
অথচ একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব সমস্যার সমাধানে এআই লাগে না। অনেক ক্ষেত্রে লাগে সঠিক চিন্তা, প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং নাগরিকের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এখন প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের পর সেটি সেখানকার ডাক বিভাগের মাধ্যমে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফলে একজন প্রবাসীকে শুধু পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য শত শত কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হচ্ছে না। এই সমাধানের পেছনে আছে নাগরিকের সমস্যাকে বোঝার চেষ্টা এবং একটি কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
এআই প্রয়োগের ক্ষেত্রেও আমাদের একই প্রশ্ন করা দরকার। আমরা কি শুধু প্রযুক্তি যোগ করছি, নাকি মানুষের সমস্যা সমাধান করছি?
এআইয়ের ভিত্তিতে দেশ
বিশ্বের দেশগুলোকে এআইয়ের স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম শ্রেণি হলো এআই ব্যবহারকারী (AI User); যারা মূলত অন্যের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়াতে চায়। দ্বিতীয় শ্রেণি এআই নির্মাতা (AI Builder); যারা শুধু ব্যবহারই করে না, বরং এআইভিত্তিক পণ্য, সেবা, স্টার্টআপ, গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে। আর তৃতীয় শ্রেণি এআই অগ্রণী (AI Frontier), যারা নতুন মডেল, নতুন অ্যালগরিদম এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের এআই গবেষণাকে সামনে এগিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের জন্য আজই অগ্রণী জাতি (Frontier Nation) হওয়ার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু শুধু ব্যবহারকারী জাতি হয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ, এআই ব্যবহারকারী হওয়ারও একটি অর্থনৈতিক মূল্য আছে, যা আমরা অনেক সময় খেয়াল করি না।
একসময় বিদেশি সফটওয়্যার ক্রয় করত মূলত বড় প্রতিষ্ঠান, বিদেশি সংস্থা। এরপর সরকার ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ হলো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত হতে হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করতে শিখলেন। আর এখন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকে নিয়মিত এআই সাবস্ক্রিপশনের জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অর্থ ব্যয় করছেন। অর্থাৎ প্রযুক্তির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের বিষয়টি ধীরে ধীরে পিরামিডের নিচের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।
শুধু অর্থের প্রশ্নও নয়। আমরা যখন প্রতিদিন বিদেশি এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি, তখন শুধু তাদের সেবাই ব্যবহার করি না; আমাদের ভাষা, আচরণ, ব্যবহারিক ধরন এবং নানা ধরনের তথ্যও তাদের দিই, যা কিনা তাদের মডেল ও ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে। এতে আমাদের ডেটা সার্বভৌমত্ব যে বিপন্ন হয় না, এটা জোর দিয়ে বলা যায় না। অন্যদিকে এর ফলে বাংলা ভাষা, স্থানীয় জ্ঞান, শিক্ষা, কৃষি কিংবা জনসেবার জন্য প্রয়োজনীয় আমাদের নিজস্ব এআই সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বলই থেকে যায়। তাই এআই নির্মাতা জাতি হওয়ার আলোচনা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; এটি জ্ঞান, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার প্রশ্নও। মানবসম্পদ উন্নয়নে তাই আমাদের মনোযোগ দিতে হবে, বলা বাহুল্য। এখন সবচেয়ে বড় সম্পদ জিপিইউ নয়, সফটওয়্যারও নয়; সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ।
বাজেট ঘোষণার পরদিনই ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার তরুণ-তরুণী দিনভর কাটিয়েছে নিজেদের এআইভিত্তিক সমাধান ও পণ্য তৈরির কাজে। ইনফিনিটি বিল্ডফেস্টের মতো এ রকম আয়োজনগুলো দেখায়, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম শুধু ব্যবহার নয়, তারা এআই নির্মাতা হতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের অভিজ্ঞতাও আশাব্যঞ্জক। কয়েক বছর আগেও এআই নিয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থী খুঁজে বের করা ছিল চ্যালেঞ্জ। এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী এআই, মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্স নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে স্পষ্ট যে এআইভিত্তিক মানবসম্পদ তৈরির সম্ভাবনা শুধু বড় শহরে সীমাবদ্ধ নয়।
এআই সার্বভৌমত্ব
এআই নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় এখন আরেকটি বিষয় বারবার ফিরে আসে এআই সার্বভৌমত্ব (AI Sovereignty)। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং কৌশলগত স্বাধীনতা—তিনটিরই সমন্বয় এই সার্বভৌমত্বের ভিত্তি। ঠিক এ কারণে আমরা ব্যাংকগুলোকে তাদের ডেটা সেন্টারসহ নিজেদের ডেটা দেশে রাখার জন্য বাধ্যবাধকতা দিয়েছি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে একটি দেশকে সব এআই প্রযুক্তি নিজে তৈরি করতে হবে। বরং এর অর্থ হলো একটি দেশের এমন সক্ষমতা থাকতে হবে, যাতে সে পুরোপুরি অন্যের প্রযুক্তি, অবকাঠামো বা সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।
১৪ জুন সকালে এআই কোম্পানি এনথ্রোপিকের নতুন উন্নত এআই মডেলে প্রবেশাধিকার হারায় আমেরিকা ছাড়া সব দেশের ব্যবহারকারীরা। মার্কিন সরকারের নির্দেশনায় এনথ্রোপিক এই কাজ করেছে বলে জানায়। এ ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত মডেল ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত বিতর্ক আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে প্রযুক্তিগত নির্ভরতা একসময় কৌশলগত ঝুঁকিতেও পরিণত হতে পারে।
বাজেটে আরও একধাপ যাওয়া যায়
বাজেট বক্তৃতায় এআইয়ের দৃশ্যমান উপস্থিতি আমাদের আশাবাদী করে। তবে শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে আরও একধাপ এগোনোর কথা আমরা ভাবতে পারি।
প্রথমত, জাতীয় এআই নীতিমালার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। গত কয়েক বছরে একাধিকবার খসড়া তৈরি হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রযুক্তির পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে দীর্ঘসূত্রতা এখানে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে শুধু একটি নীতিমালা প্রকাশ করলেই হবে না। প্রয়োজন একটি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প, সরকার এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের বাস্তবতাকেন্দ্রিক এআই গবেষণা ও মডেল উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা যেতে পারে। এ তহবিল বাংলাকেন্দ্রিক গবেষণা, ডেটাসেট এবং মডেল উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে ‘ওপেন সোর্স প্রথম’ কৌশল। আমাদের পক্ষে OpenAI, Google, Anthropic বা xAI-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু ওপেন সোর্স মডেলের ওপর ভিত্তি করে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় বাস্তবতার জন্য বিশেষায়িত সমাধান তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য ওপেন সোর্স শুধু প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি অর্থনৈতিক কৌশলও।
তৃতীয়ত, এআই আলোচনায় অনুপস্থিত ডেটা প্রসঙ্গে ফিরিয়ে আনা। বাংলা ভাষা, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জলবায়ু, জনসেবা এবং গবেষণাসংক্রান্ত উন্মুক্ত ডেটাসেট তৈরির জন্য একটি জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতের এআই সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করবে আমরা আজ কী ধরনের ডেটা অবকাঠামো গড়ে তুলছি তার ওপর।
এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে একটি শেয়ার্ড এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। সব বিশ্ববিদ্যালয় বা স্টার্টআপের পক্ষে নিজস্ব জিপিইউ অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কিন্তু একটি জাতীয় কম্পিউট অবকাঠামো গবেষক, শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ এআই ব্যবহার করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত অনেকটাই হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু অন্যের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করব, নাকি এই নতুন যুগের নির্মাতাদের মধ্যেও নিজেদের জায়গা করে নেব?
মুনির হাসান, প্রথম আলোর পরামর্শক ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি
মতামত লেখকের নিজস্ব