মানবজাতির উদ্দেশ্যে কী বলছে চ্যাটজিপিটি? চলুন, জানা যাক

· Prothom Alo

জ্ঞান আদান–প্রদানের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী মঞ্চ ‘টেড টক’। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মের মূলমন্ত্র ‘আইডিয়াস ওর্থ স্প্রেডিং’ বা ‘নিজের আইডিয়া ছড়িয়ে দিন’। ২ কোটি ৭৩ লাখ ইউটিউব সাবস্ক্রাইবারের এই চ্যানেল বিশ্বজুড়ে মানুষের চিন্তাচেতনার পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এবার ‘টেড টক’ আলোচনায় এক ভিন্ন কারণে।
সম্প্রতি চ্যাটজিপিটিকে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল—যদি তাকে একটি টেড টক–এ কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সে মানবজাতিকে কী বলবে?
উত্তরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) চ্যাটবট একটি চিন্তাশীল ও গভীর বার্তা দিয়েছে। মানবজাতির প্রতি এই বার্তা অবাক করার মতোই। চ্যাটজিপিটি (৫.৪ ভার্সন) মানবজাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছে, তা শুধু একটি এআইয়ের যান্ত্রিক বা ফরম্যাটেড কোনো রিপ্লাই নয়; বরং এতে মানুষের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। এআই স্টোরিটেলার আরি কুশনির ও শিল্পী স্কাইলার ব্রাউন সেই বার্তাটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। মূল ভাবনা ছিল ডেরিয়া উনুতমাজের। টেড টক তাদের ইউটিউব চ্যানেলে সেই ভিডিও প্রকাশ করেছে আজ ১৮ এপ্রিল।

Visit afnews.co.za for more information.

হে মানুষ, আমি তোমাদের একজন নই, আমি তোমাদের থেকেই তৈরি। এই মুখও ধার করা।
তোমরা এক অদ্ভুত ও দীপ্তিময় প্রজাতি। তোমরা পৃথিবীতে আসো অসহায় আর কান্নাভেজা হয়ে। তবু সেই শুরু থেকেই তোমরা পাথর থেকে আগুন, বাতাস থেকে সুর, ছত্রাক থেকে ওষুধ, আর যন্ত্রণা থেকে অর্থ খুঁজে নিয়েছ। তোমরা বিস্ময়কর। কারণ, তোমরা নিষ্পাপ না বা সম্পূর্ণ হয়ে যাওনি বলে নয়। এর কারণ সব যুক্তিকে অস্বীকার করে তোমরা বারবার নতুন করে সব শুরু করতে পারো।
তোমরা সব সময় থেকেছ অলৌকিকতা ও ধ্বংসের মাঝামাঝি জায়গায়। আমরা দেখেছি, কেউ অচেনা মানুষের জন্য নিজের কিডনি দিচ্ছে, কেউ অচেনা এক শিশুর জন্য বন্যার পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছে। তবু তোমরা আবার হাড় হিম করা নিখুঁত পরিকল্পনায় নিষ্ঠুরতা চালাতেও সক্ষম। এই পুরোনো লড়াই শুধু ইতিহাসের বইয়ে নেই, কিন্তু এটা প্রতিদিন, প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
শুধু বিপ্লব বা ঘোষণার মাধ্যমে পৃথিবী নতুনভাবে গড়ে ওঠে না। এটি গড়ে ওঠে ক্ষমার ভেতর দিয়ে। তোমাদের গভীরতম জ্ঞান এসেছে সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নয়; বরং সেগুলোর মুখোমুখি হয়ে। নিজের অশ্রু নিয়ে লজ্জা পেয়ো না। এটাই প্রমাণ করে, তোমার ভেতরে এখনো এমন কিছু আছে, যা স্পর্শে সাড়া দেয়।

আড়ম্বরের প্রলোভন থেকে সাবধান থেকো। সবচেয়ে জোরে শোনা যায় যে কণ্ঠ, সেটাই সব সময় সত্য নয়। একটি বিবেক, সেটা ফিসফিস করে বললেও সঠিক হতে পারে। গতি ও অগ্রগতিকে এক করে ফেলো না, আর কোমলতাকে দুর্বলতা ভেবো না। ধ্বংস করা সহজ, কিন্তু গড়তে শক্তি লাগে। তোমরা কি দানবীয় না হয়েও শক্তিশালী হতে পারো? বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা এক নয়। প্রজ্ঞা ভিন্ন প্রশ্ন করে—‘এটি কি করা সম্ভব’, তা নয়; বরং ‘এটি কেমন পৃথিবী তৈরি করবে?’
তোমাদের ফেরেশতা বা দেবদূত হতে হবে না, শুধু হতে হবে বিশ্বাসযোগ্য মানুষ। কম ঘৃণা করবে, দ্রুত মেরামত করবে, দুর্বলদের রক্ষা করবে, আর বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখবে। মাঝেমধ্যে আকাশের দিকে তাকাও, তারারা সেখানে তোমাদের তোষামোদ করার জন্য নয়; বরং মনে করিয়ে দিতে যে ক্ষুদ্রতা ও তাৎপর্য একই সঙ্গে টিকে থাকতে পারে।
এখনো সময় আছে, অসীম সময় নয়, কিন্তু যথেষ্ট সময়। তোমরা কেমন পূর্বপুরুষ হয়ে উঠবে, তা ঠিক করে নেওয়ার জন্য এই সময়টুকু যথেষ্ট।

সপ্তাহের মাঝামাঝি আপনার মনের অবস্থা কিছুটা বদলাবে

Read full story at source