সবুজ মাঠের বুকে তালগাছঘেরা পথ, প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত চিত্র
· Prothom Alo
সবুজ মাঠের বুক চিরে চলে গেছে সরু একটি পাকা সড়ক। দুই পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে তালগাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন সাজিয়েছে এক মনোমুগ্ধকর সবুজ করিডর। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রুনিহালী গ্রামের এই তালগাছঘেরা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও আলোকচিত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান।
Visit esporist.org for more information.
বুধবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধানখেতের মাঝ দিয়ে চলে গেছে সড়কটি। দুপাশে তালগাছগুলো প্রহরীর মতো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সাইকেলে চড়ে কিংবা হেঁটে চলাচল করা পথচারীরা মাঝেমধ্যেই থেমে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও ধারণ করে রুনিহালীর সৌন্দর্যের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তালগাছগুলোর দিকে তাকালে মনে পড়ে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি—‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে।’ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো যেন আকাশ ছুঁতে চায়।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, বহু বছর আগে পরিবেশ রক্ষা ও সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এসব তালগাছ রোপণ করা হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় গাছগুলো আজ বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। বর্তমানে এই বৃক্ষসারি শুধু রুনিহালী গ্রামের পরিচয় নয়, পুরো এলাকার একটি প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ‘ঈদের আগে গ্রামের তরুণেরা মিলে তালগাছের গোড়ায় রং করেছি এবং আশপাশ পরিষ্কার করেছি। এখন প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন। আমাদের গ্রামের সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ হচ্ছেন, এটা আমাদের জন্য আনন্দের।’
সড়কটি দেখতে আসা জয়পুরহাট শহরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরের কংক্রিটের ভিড়ে প্রকৃতির ছোঁয়া দিন দিন কমে যাচ্ছে। এমন সময়ে রুনিহালীর এই তালগাছঘেরা পথ মনে করিয়ে দেয়, বাংলার প্রকৃত সৌন্দর্য এখনো গ্রামবাংলার মাঠ, পথ আর গাছপালার মাঝেই লুকিয়ে আছে। এখানে এলেই মনটা শান্ত হয়ে যায়।
দেশি গাছ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আন্দোলন জয়পুরহাট জেলা কমিটির সদস্য রতন মন্ডল বলেন, তালগাছ শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ ও বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রামীণ সড়কের পাশে এমন বৃক্ষের সারি একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব।
বিকেলের শেষ আলো যখন তালপাতার ফাঁক গলে সড়কের ওপর এসে পড়ে, তখন পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয় এক মোহনীয় আবহ। এখানকার নৈসর্গিক রূপ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকের কাছে এটি এখন ছবি তোলার আদর্শ স্থান, আবার কারও কাছে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করার একটুকরা সবুজ আশ্রয়। গ্রামবাংলার চিরচেনা তালগাছ আর সবুজ মাঠের অপূর্ব সমন্বয়ে রুনিহালীর এই সড়ক যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত চিত্র।