তিন তরুণকে বেঁধে নির্যাতন, মামলা করায় বাদীর ‘চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি’
· Prothom Alo

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় তিন তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগ ও মামলা করার পর থেকে বাদী, তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
মামলার বাদী আব্দুর রব মোল্লা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মনির গাইন (৩৫), সুমন মোল্লা (৩৪) ও মুসা (২৮)। আসামিরা তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোনে কল করে মামলা তুলে নিতে বলছেন। মামলা তুলে না নিলে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
Visit casino-promo.biz for more information.
জানা গেছে, গত ৩ জুন ব্যাটারি চুরির অভিযোগ এনে সদর উপজেলার বোতলবুনিয়া গ্রামের বায়জীদ মোল্লা, মিরাজ মৃধা ও আসলামকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাগানের গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে অংশ নেন একই এলাকার নূর মোহাম্মদ মোল্লা, সুমন মোল্লা, মনির গাইন, ইমরান ও মুসা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তিন তরুণকে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিরা তাঁদের হাতে থাকা লাঠি বা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে বায়জীদ নামে এক তরুণকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় বায়জীদ চিৎকার করে তাঁদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাগানের মধ্যে ছোটাছুটি করছেন। অভিযুক্তরা তাঁর পেছনে ছুটে গিয়ে মারধর করেন এবং পরে ধরে এনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আবার নির্যাতন চালান। একইভাবে মিরাজ ও আসলামকেও মারধর করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ১০ জুন মারধরের শিকার বায়জীদের বাবা আব্দুর রব মোল্লা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। ১২ জুন অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বায়জীদ প্রথম আলোকে বলেন, মারধরে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ কিছুদিন আগে তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নূর মোহাম্মদ তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাশুড়ির কাছেও টাকা দাবি করেন। সেখানেও ব্যর্থ হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বায়জীদ ও তাঁর পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি ঈদুল আজহা উপলক্ষে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। গত ৩ জুন আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে এনে একটি পরিত্যক্ত বাগানে নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে নির্যাতন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বায়জীদের বাবা ও মামলার বাদী কৃষক আব্দুর রব মোল্লার অভিযোগ, এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ইমরান ও নূর মোহাম্মদ পলাতক থাকলেও বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁর আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোনে কল করে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আসামিরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আসামি মনির গাইন ও সুমন মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কমল বড়াল প্রথম আলোকে বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর আছে। বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ থাকলে বাদী থানায় এসে অভিযোগ করার পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের হুমকির কারণে যদি বাদী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সে বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।