বিহারে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া তরুণের নেপালে অস্বাভাবিক মৃত্যু

· Prothom Alo

ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় ‘খান স্যার’ কোচিং সেন্টারে হামলায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। নেপালের বিরাটনগরের এক হোটেলে ওই অভিযুক্ত প্রিন্স যাদবকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নেপাল পুলিশ জানায়, গত শনিবার পূর্ব নেপালের বিরাটনগরের এক হোটেলে প্রিন্স ওঠেন। পরদিন রোববার তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

Visit tr-sport.bond for more information.

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রিন্স যাদবের পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। প্রিন্সের বড় ভাই রওশন আনন্দ। তিনি ও প্রিন্স পাটনার ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং সেন্টারের মালিক। তাঁদের বিরুদ্ধে ২ জুন খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল।

সে অভিযোগের পর রওশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ভাই প্রিন্স যাদব সেই থেকে পলাতক। নেপালের হোটেল থেকে প্রিন্সের পাঁচ বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেপাল পুলিশ আটক করেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেপাল পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে, মৃত্যুর সময় প্রিন্স যাদব মাতাল ছিলেন। তবে তাঁর চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রিন্সকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং দেওয়ার জন্য ফয়সল খান (খান স্যার) তৈরি করেন ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’। ক্রমেই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ যদি হয় মাতৃভাষায় (হিন্দি) শিক্ষাদানের অনন্য পদ্ধতি, দ্বিতীয় কারণ তাহলে সস্তায় শিক্ষাদান।

সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীরা যাতে অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে লক্ষ রেখেই খান স্যার ওই কোচিং সেন্টার খোলেন। প্রতিষ্ঠিত কোচিং ইনস্টিটিউটগুলো যেখানে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ফি দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে থাকে, খান স্যারের কোচিং সেন্টার সেখানে ফি নেয় সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার রুপি।

খান গ্লোবাল স্টাডিজ দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় একই পদ্ধতিতে পাটনায় খোলা হয় আরও কোচিং ইনস্টিটিউট। তারই অন্যতম রওশন আনন্দর ‘জ্ঞান বিন্দু’। এই দুই কোচিং সেন্টারের মধ্যে পেশাগত রেষারেষি শুরু থেকেই। রেষারেষির দরুন আগেও খান স্যারের কোচিং সেন্টারের ওপর হামলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিহার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দুই সংস্থাই সফল প্রার্থীদের নিজেদের ছাত্র বলে দাবি জানায়। অভিযোগ, ২ জুন খান গ্লোবাল স্টাডিজে হামলা চালান রওশন ও প্রিন্সের অনুসারীরা। বোমা ছোড়া হয়। জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। আক্রমণকারীদের রুখতে ও আত্মরক্ষায় খান গ্লোবাল স্টাডিজের নিরাপত্তারক্ষীরা আকাশে গুলি ছোড়েন।

ওই ঘটনার পর রওশনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রিন্স গা ঢাকা দেন। আটক করা হয় খান কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীদেরও। ফয়সল খান বা খান স্যারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। রওশন বন্দী রয়েছেন।

এ অবস্থায় প্রিন্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে। কোচিং সেন্টার এলাকায় পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবর।

Read full story at source